
শম্ভুনাথ সেনঃ
পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করে বীরভূম তথা সিউড়ির নাম উজ্জ্বল করল শুভায়ন মণ্ডল। সিউড়ির পাবলিক অ্যান্ড চন্দ্রগতি মোস্তাফি মেমোরিয়াল হাই স্কুলের এই মেধাবী ছাত্র ৫০০-র মধ্যে ৪৯৪ নম্বর পেয়ে ৯৮.৮ শতাংশ নম্বর অর্জন করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭.১ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে প্রত্যেক বিষয়ে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ নম্বর পাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।

শুভায়নের কথায়, “সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল নিয়মিত পড়াশোনা ও আত্মবিশ্বাস। স্কুলের পড়ার পাশাপাশি প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা নিজেও পড়তাম।” বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র শুভায়নের স্বপ্ন ভবিষ্যতে একজন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করা। তবে শুধুমাত্র পড়াশোনা নয়, ক্রিকেট ও গানবাজনাও তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুভায়ন অবসর সময়ে গিটার বাজাতে ভালোবাসে। মাধ্যমিক পরীক্ষায় মাত্র এক নম্বরের জন্য মেধাতালিকায় জায়গা পাননি শুভায়ন। সেই আক্ষেপ থেকেই এবারের প্রস্তুতি ছিল আরও দ্বিগুণ। যদিও মেধাতালিকায় নাম থাকবে বলে আশা ছিল, তবে রাজ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করবে তা কল্পনাও করেনি সে।

উচ্চমাধ্যমিকের মেধা তালিকায় অষ্টম স্থান দখল করে রাজ্যের নজর কেড়ে নিল বীরভূমের ইলামবাজারের কামারপাড়া গ্রামের কৃতি কন্যা পুষ্পিতা বাঁশরী। ইলামবাজার ইন্টিগ্রেটেড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এই ছাত্রীর প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৯। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যের মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল। প্রান্তিক গ্রাম থেকে উঠে এসে পুষ্পিতার এই আকাশছোঁয়া সাফল্য আজ গোটা জেলাকে গৌরবান্বিত করেছে। অভাব বা প্রতিকূলতা যে অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য, পুষ্পিতা তার জীবন্ত উদাহরণ। কেবল মুখস্থ বিদ্যা নয়, বরং বিষয়ের গভীরে পৌঁছে নিরলস পরিশ্রমই তাকে পৌঁছে দিয়েছে সেরাদের সারিতে। পুষ্পিতার এই জয়ে খুশি ইলামবাজার তথা বীরভূমবাসী। পুষ্পিতা প্রমাণ করে দিল, স্বপ্ন দেখার সাহস আর তা পূরণের জেদ থাকলে মেঠো পথ থেকেও রাজপথ জয় করা সম্ভব। আগামী প্রজন্মের কাছে সে আজ এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।
বীরভূমের সিউড়ি পাবলিক অ্যান্ড চন্দ্রবতী মুস্তাফি মেমোরিয়াল হাই স্কুলের কৃতী ছাত্র তপোব্রত দাসও এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় জেলায় অষ্টম স্থান অধিকার করেছে। তার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া স্কুলজুড়ে। শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে পরিবার ও এলাকার মানুষ সকলেই গর্বিত ও আনন্দিত।
