
শম্ভুনাথ সেনঃ
ভোটের ময়দানের তিক্ততা ভুলে রাজনীতির আঙিনায় সৌজন্য, সংস্কার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো বীরভূমে। নির্বাচনের উত্তাপ কমতেই এক ফ্রেমে ধরা দিলেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা, যা দেখে আপ্লুত রামপুরহাটের সাধারণ মানুষ। রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা আজ ১৮ মে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন এবারের প্রতিদ্বন্দ্বী এলাকার বর্ষীয়ান বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ডঃ আশিস ব্যানার্জীর সঙ্গে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও, এদিন সেই দেওয়াল ভেঙে পড়ে। প্রবীণ নেতা আশিস ব্যানার্জীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন ধ্রুব সাহা। এরপর প্রবীণ নেতার মুখে মিষ্টি তুলে দিয়ে তাঁর কাছ থেকে আগামী দিনের পথচলার আশীর্বাদও গ্রহণ করেন তিনি।
বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে তাদের দলীয় সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মতাদর্শের লড়াই নিজের জায়গায়, কিন্তু বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যই ভারতীয় জনতা পার্টির প্রকৃত পরিচয়। ‘সংগঠনই শক্তি, সংস্কারই আমাদের গর্ব’—এই মন্ত্রকে বুকে নিয়েই যে তাদের পথচলা, ধ্রুব সাহার এই আচরণ তা আরও একবার প্রমাণ করল। সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে—গণতন্ত্রে হার-জিত থাকবেই, কিন্তু নির্বাচনের পর এই ধরণের সুস্থ সৌজন্যের আবহ বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে এক নতুন দিশা দেখাবে।বিরোধিতা যে শুধুই নীতিগত, ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নয়—রামপুরহাটের এই ছবি আজ যেন সেই বার্তাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।
