
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সরকারি প্রকল্পগুলোর গতি ত্বরান্বিত করতে বুধবার বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক পর্যালোচনা (Development Review) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ব্লক প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক থেকে শুরু করে তৃণমূল স্তরের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই প্রশাসনিক বৈঠকটি সম্পন্ন হয়।
বৈঠকে মূলত খয়রাশোল ব্লকের অন্তর্গত দশটি পঞ্চায়েতের চলমান উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়। উপস্থিত ছিলেন দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা, ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) ডক্টর সৌমেন্দু গাঙ্গুলী, খয়রাসোল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অসীমা ধীবর, সহ-সভাপতি তারাপদ দাস, ব্লক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সৈয়দ সঞ্জয় হোসেন,বিএলডিও ডাঃ চন্দ্রজিৎ কারক সহ ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরের আধিকারিক, বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং প্রতিটি পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানগণ।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা জানান, আগামী বাজেট পেশ হওয়ার পূর্বেই ব্লকের সমস্ত বকেয়া কাজ যাতে সম্পূর্ণ করা যায়, তার জন্য প্রতিটি পঞ্চায়েত ধরে ধরে বিস্তারিত আলোচনা ও পরিকল্পনা করা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যত ধরনের জনকল্যাণমূলক স্কিম বা প্রকল্প রয়েছে, সেগুলোর সুফল যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ১০০ শতাংশ পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। এ বিষয়ে উপস্থিত সমস্ত আধিকারিক ও পঞ্চায়েত প্রধানদের আরও বেশি সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগামীকাল ২১ শে মে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পাঁচ জেলার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেই মহা-বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবেই আজ দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে খয়রাশোল এবং দুবরাজপুর ব্লকের প্রশাসনিক ও পঞ্চায়েত স্তরের সমস্ত কর্মীদের নিয়ে পৃথক পৃথক ভাবে এই বিশেষ প্রস্তুতিমূলক আলোচনা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে একটি সুনির্দিষ্ট ‘টিম’ হিসেবে কাজ করে বিধানসভা এলাকার সমস্ত সরকারি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
খয়রাশোল ব্লকের বিডিও ডক্টর সৌমেন্দু গাঙ্গুলী এই বৈঠকের বিষয়ে জানান, বৈঠকে মূলত ব্লকের কোথায় কী কাজ হয়েছে, কোন কোন কাজ এখনো বাকি এবং ফান্ডের সঠিক ব্যবহার কীভাবে করা যায়— তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আগামী এক মাসে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, স্বচ্ছ ভারত মিশন, আয়ুষ্মান ভারত, অন্নপূর্ণা যোজনা এবং এমজিএনআরইজিএ (১২৫ দিনের কাজ)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর সুবিধা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। প্রশাসনের লক্ষ্য, প্রতিটি পঞ্চায়েতে যেন একটি ইতিবাচক ও চোখে পড়ার মতো দৃষ্টান্তমূলক উন্নয়ন গড়ে তোলা যায়।
