
শম্ভুনাথ সেনঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহেই বীরভূমের দুবরাজপুর পৌরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত মিলল। পৌরসভার অন্তত ৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
এই দল ছাড়ার তালিকায় সবচেয়ে প্রথম নাম দুবরাজপুর পৌরসভার সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর তথা শহর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি সাগর কুণ্ডু। গত সোমবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ এবং যুব সভাপতির পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন। নিজের পোস্টে সাগর কুণ্ডু উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দুবরাজপুরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ গণতান্ত্রিকভাবে বিজেপির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের রায়কে সম্মান জানানোই তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। তাই বর্তমান পদে আসীন থাকা তাঁর নীতিবিরুদ্ধ।
সাগর কুণ্ডুর পথ অনুসরণ করে দুবরাজপুর পৌরসভার আরও ৫ জন কাউন্সিলর পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে অর্জুন চৌধুরী (৫ নম্বর ওয়ার্ড) এবং সাগর কুণ্ডু (১২ নম্বর ওয়ার্ড) দুবরাজপুর পুর আধিকারিক এর কাছে তাদের পদত্যাগ পত্র পেশ করেছেন বলে খবর। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানিক মুখোপাধ্যায় সরাসরি সিউড়ীতে সদর মহকুমা শাসকের কাছে কাউন্সিলর পদ থেকে আজ ২৭ মে তাঁর পদত্যাগ পত্র প্রদান করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
যদিও অন্য কাউন্সিলররা প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে তাঁদের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং এলাকার মানুষের মতামতের কারণেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা জানান, যেভাবে রাজ্যের পাশাপাশি দুবরাজপুরের মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, তাতে আগামী দিনে তৃণমূল দলটির কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। বিজেপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হচ্ছে, স্রেফ ‘গ্রেপ্তারির ভয়েই’ এই ইস্তফার হিড়িক লেগেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি— কাউন্সিলরদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণে এমনটা করানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই কাউন্সিলদের পদত্যাগপত্র শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়, তবে পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ডে উন্নয়নমূলক কাজকর্ম এবং নাগরিক পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। সরকারি প্রকল্প ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রশাসনিক কাজ সাময়িকভাবে থমকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। উল্লেখ্য, চলতি বোর্ডের সপ্তম পুরনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। ১৬ টি ওয়ার্ডেই তৃণমূল জয়লাভ করে। তার মধ্যে ৫,৮,৯,১৪ এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তাই এমনিতেই এই পুরবোর্ডের মেয়াদ হাতে গোনা কয়েক মাস।
