বীরভূমের দুবরাজপুরে কাটমানি বিতর্ক: কাউন্সিলরকে না পেয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গণধোলাই ক্ষুব্ধ জনতার

শম্ভুনাথ সেনঃ

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে গরিব মানুষের থেকে অবাধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল বীরভূমের দুবরাজপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়া স্থানীয় বাসিন্দারা শেষমেশ আইন নিজের হাতে তুলে নেন। অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর নিজের বাড়িতে ঢুকে পড়ায় তাঁর এক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে ধরে গণধোলাই ও জুতোপেটা করে জনতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুবরাজপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ভাস্কর রুজ গরিব মানুষকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার পাকা ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার বদলে তিনি ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি বা ঘুষ নেন। টাকা দেওয়ার পরও দীর্ঘদিন কেটে গেলেও কোনো ঘর মেলেনি, আবার কাটমানির টাকাও ফেরত পাওয়া যায়নি। এই নিয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভের আগুন ধিকধিক করে জ্বলছিল। ২৮ মে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই ক্ষোভেরই এক মারাত্মক বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এলাকার উত্তেজিত জনতা, বিশেষ করে একদল ক্ষুব্ধ মহিলা, কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে কাউন্সিলর ভাস্কর রুজের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বেগতিক বুঝে কাউন্সিলর দ্রুত ঘরের ভেতরে ঢুকে আত্মগোপন করেন।


কাউন্সিলরকে সামনে না পেয়ে উপস্থিত জনতার চোখ পড়ে তাঁরই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা ধনঞ্জয় গড়াই (যিনি এলাকায় ধনু মাস্টার নামে পরিচিত তাছাড়া রেজিস্ট্রি অফিসের কপিরাইটার হিসেবে কাজ করেন)-এর ওপর। উত্তেজিত জনতা তৎক্ষণাৎ তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে। এরপরই শুরু হয় তুমুল মারধর এবং জুতোপেটা। প্রকাশ্য রাস্তায় ধনু মাস্টারকে ধরে বেধড়ক পেটানোর এই ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পৌঁছায় দুবরাজপুর থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা উত্তেজিত জনতার হাত থেকে কোনোমতে রক্তাক্ত ও বিধ্বস্ত ধনু মাস্টারকে উদ্ধার করে। বর্তমানে নতুন করে কোনো অশান্তি যাতে না ছড়ায়, তার জন্য ওই এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুলিশি টহল মোতায়েন করা হয়েছে। একদা প্রভাবশালী বলে পরিচিত নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষের এই মারমুখী রুখে দাঁড়ানো আদতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই চরম বহিঃপ্রকাশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর ও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়ে গেছে। অন্যান্য ওয়ার্ডগুলিতেও অভিযুক্তরা ভয়ে তটস্থ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *