বীরভূমের রাজনৈতিক জয়গাথা: দুই ভূমিপুত্রের মন্ত্রীত্বে খুশির হাওয়া রাঙামাটির জেলায়

শম্ভুনাথ সেনঃ

রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল বীরভূম জেলা। নবগঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভায় বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছেন জেলার দুই প্রবীণ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব— সিউড়ি বিধানসভার বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং ময়ূরেশ্বরের বিধায়ক দুধকুমার মণ্ডল। পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে তাঁরা জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। রাজ্যপাল দ্বারা ১ জুন লোকভবনে শপথ গ্রহণের পর বীরভূম জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। আগামীকাল জানা যাবে তারা কোন দপ্তরের দায়িত্ব পাচ্ছেন!


২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের মোট ১১ টি আসনের মধ্যে ৬ টি আসনে পদ্মশিবির জয়লাভ করে। তার পুরস্কার স্বরূপ এই দুই লড়াকু নেতাকে ক্যাবিনেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উল্লেখ্য, সাংবাদিকতার জগৎ থেকে এসে ২০২৬ সালে বিজেপির টিকিটে জয়ী হওয়া সদর সিউড়ির জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় আজ নিজের যোগ্যতায় ভারতীয় জনতা পার্টির প্রথম সারির নেতা। অন্যদিকে, দুধকুমার মণ্ডলের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। ১৯৮৮ সালে ময়ূরেশ্বরের গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে জেলা সভাপতি এবং অবশেষে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জয়— তাঁর এই যাত্রা পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। ১৯৯১ সালের করসেবা থেকে শুরু করে ২০০৭-২০০৮ সালে আন্দোলনের সময় একাধিকবার পুলিশের নির্মম মারধর ও অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। বিজেপির জেলা সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। কিন্তু সব বাধা অতিক্রম করে আজ তিনি মন্ত্রিসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ।


শপথ গ্রহণের পর দুধকুমার বাবু প্রত্যয়ী কণ্ঠে জানান, “রাজ্যকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসন দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” বীরভূমের এই দুই ভূমিপুত্রের হাত ধরে জেলা তথা সমগ্র রাজ্যের প্রভূত উন্নয়ন ঘটবে— এই আশায় বুক বাঁধছেন রাঙামাটির মানুষজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *