একসময়ের ‘মমতাময়ী মা’ ও ‘বাংলার সেনাপতি’ অভিষেকের সঙ্গ ত্যাগ: বীরভূমে জয়ী ৫ তৃণমূলের বিধায়ক এখন “নয়া তৃণমূলে”

শম্ভুনাথ সেনঃ

রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু নেই! রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠল বীরভূমে। জেলার রাজনীতিতে একসময় যাঁদের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ‘মা’ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ‘বাংলার সেনাপতি’, ক্ষমতার টানাপোড়েনে সেই আনুগত্যের খোলস নিমেষেই খসে পড়ল। দলনেত্রীর শিবিরের মোহ ত্যাগ করে বীরভূমের তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীকে ৫ হেভিওয়েট জয়ী বিধায়ক এখন সামিল হয়েছেন নয়া তৃণমূলের শিবিরে।
গত ৩ জুন স্পিকারের ঘরে জমা পড়া ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠিতে বীরভূমের এই পাঁচ বিধায়কের নাম প্রকাশ্যে আসতেই জেলা রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন তিনবারের বোলপুর বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, নলহাটির দুবারের বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিংহ, মুরারয়ের দুবারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন, নানুরের দুবারের বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাঝি এবং বীরভূম জেলা সভাধিপতি তথা হাসন কেন্দ্রের এবারের নয়া বিধায়ক ফায়েজুল হক ওরফে কাজল সেখ।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, অতলান্ত দুর্নীতি থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করতেই এই বিধায়কদের আকস্মিক দলবদল। তবে এই রাজনৈতিক ডিগবাজি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে জেলা বাম শিবির। সিপিআইএমের বীরভূম জেলা নেতৃত্বের দাবি, এই নয়া তৃণমূল আসলে বিজেপির পরোক্ষ সমর্থনে পরিচালিত একটি দল, যা মূলত নিজেদের পিঠ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। দলবদলের এই নাট্যমঞ্চ আগামী দিনে বীরভূমের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *