
শম্ভুনাথ সেনঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ডবল ইঞ্জিন সরকারের সূচনা হতেই বীরভূমে জোর রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। দলেরই বিধায়ক ও জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক তোলাবাজির অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার হলেন নলহাটির সক্রিয় বিজেপি কর্মী সুবোধ কুমার সাউ।
সম্প্রতি একটি ভিডিয়ো বার্তায় সুবোধবাবু রামপুরহাট বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা এবং বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর অভিযোগ, পাথর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার তোলাবাজি করছেন এই দুই নেতা। তাঁদের দুজনকে ‘অনুব্রত মণ্ডলের থেকেও খারাপ’ বলে আখ্যা দিয়ে এবং গেরুয়া গেঞ্জি ছিঁড়ে দলত্যাগের ঘোষণা করেন তিনি। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই দুর্নীতির তদন্তের আর্জি জানান।
বিজেপি কর্মী সজল কুমার রায়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুবোধ কুমার সাউকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তাঁকে ১১ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে সুবোধবাবু দাবি করেন, মুখ বন্ধ করতেই তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জেলা বিজেপি সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “ওই ব্যক্তি আমাদের দলের কেউ নন। আমাদের দল অত্যন্ত সংগঠিত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ।” একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাইকেল চড়ে নবান্ন অভিযানে যাওয়া এই বিক্ষুব্ধ কর্মীর গ্রেপ্তারি ঘিরে বর্তমানে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

