হৃদয়ের মেলবন্ধন: আজীবন বন্ধুত্বের জয়গানে বিশ্ব বেস্ট ফ্রেন্ড ডে

শম্ভুনাথ সেনঃ

রক্তের কোনো বাঁধন নেই, অথচ জীবনের প্রতিটা সুখ-দুঃখের গল্প যেখানে নির্দ্বিধায় উজার করে দেওয়া যায়—তার নামই “বন্ধুত্ব”। আজ ৮ জুন, পালিত হচ্ছে ‘ন্যাশনাল বেস্ট ফ্রেণ্ড ডে’ বা ঘনিষ্ঠ বন্ধু দিবস। মনের সব কথা ভাগ করে নেওয়ার মতো সেই বিশেষ মানুষটিকে সম্মান জানাতেই উৎসর্গীকৃত এই দিন।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৩৫ সালে মার্কিন কংগ্রেস প্রথম এই দিনটিকে একটি বিশেষ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সময়ের সাথে সাথে সেই উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে।
আজকের এই যান্ত্রিক জীবনেও বেস্ট ফ্রেন্ড বা পরম বন্ধুটি হলো এক টুকরো খোলা আকাশ। কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়াই যে আমাদের সব ভুলত্রুটি মেনে নেয়, সব কথা যাকে উজাড় করে বলা যায় সেই তো আসল বন্ধু। জীবনের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এই বিশেষ সম্পর্কগুলো টিকে থাকে আজীবন। তাই আজ অন্তত একবার আপনার প্রিয় বন্ধুটির হাত ধরে বলুন—”পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ। বীরভূমের দুবরাজপুর পুরসভা এলাকায় করোনা কালে গড়ে ওঠা এমনি এক “বয়স্ক যুবকদের আড্ডার আসর” এখন অনেকের নজর কেড়েছে। জয়ন্ত দাঁ (৭৬), সাধন ভট্টাচার্য (৬৭), হেমন্ত মণ্ডল (৬৮), অশেষ ঘোষ (৫৮) অরুণ গেনরীওয়াল (৬৯) নরেন মুখার্জি (৬২) জয়দেব দে (৫৫), সঞ্জীব খান্ডেলওয়াল (৫৩) এমন জনা কুড়ি সদস্য নিয়ে সকাল বিকেল বসে তাদের আড্ডার আসর। সমবয়সী কিংবা স্কুল জীবনের কোনো বন্ধুত্ব নয়,এই বন্ধুদের আড্ডার আসরে কেউবা ৫০ বয়সি আবার কেউ ৭২-৭৫। গড়ে ওঠা এইসব বন্ধু সদস্যরা শুধুই আড্ডার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না। আড্ডা, রসিকতা, ভ্রমণ বিলাসিতার পাশাপাশি যোগ চর্চা, সারা বছর বিভিন্ন সেবা মূলক ক্রিয়া কর্মের মধ্যেই সময় কাটায় এই বয়স্ক যুবকরা। স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস এমন সব মনিষীদের জন্মদিন পালন অনুষ্ঠান, কখনো বা আবার স্থানীয় হাসপাতালে রোগীদের ফল ও বিস্কুট বিতরণ ছুটে যান এইসব সদস্যরা। মনের মিল এবং ভাবনার সমান্তরাল সরলরেখা ছুটে চলেছে এই বয়স্ক যুবকদের আড্ডার আসর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *