
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
টেট (TET) বিধি চালুর পূর্বে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি সুরক্ষিত রাখার দাবিতে বৃহস্পতিবার বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের (ডিআই) নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এদিন সংগঠনের জেলা সম্পাদিকা ফরিদা ইয়াসমিন জানান, শিক্ষার অধিকার আইন (RTE) অনুসারে ২০১১ সালে টেট ব্যবস্থা কার্যকর হয়। সেই সময় আইনের 12(A) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, টেট চালুর পূর্বে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর এই বিধানের কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। পরবর্তী সময়ে নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক সংশোধনী এলেও উক্ত ধারা বাতিল করা হয়নি। পাশাপাশি, টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে চাকরি থেকে অপসারণের বিষয়েও কোথাও স্পষ্ট উল্লেখ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে ১৩ জন সাংসদ টেট বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতা করে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে, ১৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী টেট-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, UDISE+–এর সর্বশেষ তথ্য অনুসারে দেশে প্রায় ১.০৪ লক্ষ একক-শিক্ষক বিশিষ্ট বিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে প্রায় ৩৪ লক্ষ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। এখনও ওই বিদ্যালয়গুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে কর্মরত শিক্ষকদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করা শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে ক্ষতিকর বলে সংগঠনের মত।
স্মারকলিপিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়, টেট চালুর পূর্বে নিযুক্ত সমস্ত কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের টেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধ্য করা যাবে না এবং অবসর গ্রহণ পর্যন্ত চাকরির নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে গ্রহণ করতে হবে।
এদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৬ জুন কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে দুপুর ১টায় ‘TET Effected Teacher’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষকদের চাকরি সুরক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দাবিতে এই আন্দোলনকে আরও জোরদার করার কথাও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

