
শম্ভুনাথ সেনঃ
বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী সিউড়ী মা ভবতারিণী মন্দিরের সার্ধ শততম প্রতিষ্ঠা বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে আজ ১৩ জুন কালীবাড়ি চত্বরে বসেছিল এক অনন্য চাঁদের হাট। বীরভূম সাহিত্য পরিষদের সহযোগিতায় ও সিউড়ি কালিবাড়ীর উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু গুণীজন। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও চারাগাছে জল সিঞ্চনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘটে। উদ্বোধনী সংগীতের মূর্ছনায় পরিবেশকে ভক্তিপূর্ণ করে তোলেন বিমল কুমার সোম। স্বাগত ভাষণে ডঃ পার্থসারথি মুখোপাধ্যায় এই প্রাচীন কালীবাড়ির গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

মঞ্চ আলো করে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন অধ্যাপক নারায়ণ প্রসাদ ভট্টাচার্য্য, বিশিষ্ট গায়ক বিনয় হাজরা। এরপর শুরু হয় মূল আকর্ষণ—কবিতা পাঠের আসর। ছড়াকার আশিস মুখোপাধ্যায়, ডঃ আদিত্য মুখোপাধ্যায়, কবি সরোজ কর্মকার, তাপস চট্টরাজ, অজিত চৌধুরী, শান্তি রজক, প্রদীপ মণ্ডল, মলয় ঘোষ ও রেইনি চৌধুরী সহ শতাধিক কবির কবিতা পাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে চত্বর।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গ্রন্থ প্রকাশ। এই ঐতিহাসিক মঞ্চেই “কচ্চিকা ভূমি” পত্রিকা সহ কৃপালক্ষী দাশের কাব্যগ্রন্থ এবং দেবাশিস দাসের “আ মরি বাংলা ভাষা” গ্রন্থটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। কালীবাড়ির সাহিত্য চর্চার ঐতিহ্য এবং আজকের এই আয়োজনের গভীর তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেন কালীবাড়ির আর এক উত্তরসুরী শুভদীপ মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি, এই পুণ্যভূমির সুদীর্ঘ ইতিহাস শ্রোতাদের সামনে পরম নিষ্ঠায় তুলে ধরেন নিতাই প্রসাদ ঘোষ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সিউড়ির সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল।

