প্রাকৃতিক কৃষির প্রসারে বীরভূমে বিশেষ কর্মশালা: রাসায়নিক সার বর্জন ও জৈব সারের ব্যবহারের ওপর জোর

শম্ভুনাথ সেনঃ

রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকারক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে চাষাবাদের বার্তা ছড়িয়ে দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে ১৩ জুন বীরভূমে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ‘প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হলো। সিউড়ি ও বোলপুর মহকুমার ১১ টি ব্লকের পাশাপাশি দুবরাজপুর ব্লকের ‘অনুষ্ঠান ভবনে’ এই কর্মশালাটি আয়োজিত হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও বন্দে মাতরম স্বদেশ মন্ত্রের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।উক্ত অনুষ্ঠানে গৌরবময় অতিথি রূপে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা, সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক জয়সূর্য চক্রবর্তী, বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. রবিন ঘোষ প্রমুখ। স্বাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন করেন দুবরাজপুরের সহ-কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) মঙ্গল দাস। উপস্থিত সমস্ত গুণীজনদের চন্দনের ফোঁটা, উত্তরীয় ও পুষ্পস্তবক দিয়ে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। এই মহতী উদ্যোগে শামিল হয়েছিলেন এলাকার অন্তত ১৫০ জন প্রগতিশীল কৃষক, বিভিন্ন কৃষক গোষ্ঠী ও সমাজের বিশিষ্টজনেরা।
কর্মশালায় উপস্থিত আধিকারিক ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাষের জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা হ্রাস এবং মানবদেহে তার মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবের কথা তুলে ধরেন বিশ্বভারতী রথীন্দ্র কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের কৃষি বিশেষজ্ঞ সৌস্থব দত্ত,সহ কৃষি অধিকর্তা (বিষয়বস্তু)গোপন চুনারী,কৃষি আধিকারিক বিপ্লব পতি,স্থানীয় প্রাণী চিকিৎসক আধিকারিক দেবব্রত খামরুই প্রমুখ। বিকল্প হিসেবে গোবর সার, কম্পোস্ট ও প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহারের সঠিক নিয়মাবলী শেখানো হয়, যা ফসলের গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমাবে। কৃষির পাশাপাশি পশুপালনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশের রূপরেখাও আলোচনা করা হয়। সরকারের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ স্থানীয় কৃষক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *