জন কল্যাণ শিবির: গরম উপেক্ষা করে বীরভূমের ১৯টি ব্লক ও ৬টি পৌরসভায় উপভোক্তাদের উপচে পড়া ভিড়

নয়াপ্রজন্ম প্রতিবেদনঃ

নবগঠিত বিজেপি সরকারের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা পৌঁছে দিতে আজ ১৫ জুন, ২০২৬, সোমবার থেকে তিনদিনের জনকল্যাণ শিবির চালু হলো জেলা বীরভূমের প্রান্তিক অঞ্চল রাজনগরে। চলবে আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত। খবর পেয়ে রাজনগর ডাকবাংলো নজরুল ভবনে আয়োজিত এই শিবিরে এলাকার প্রচুর মানুষ ভিড় করেন। এ বিষয়ে রাজনগর মণ্ডল বিজেপির সহ-সভানেত্রী মমতা দে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, মোট ৫৬ টি সরকারি প্রকল্পের জন্য আজ থেকে তিনদিনের এই শিবির চালু হয়েছে। প্রচুর মানুষ আসছেন। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এই শিবির চলবে।

রাজ্য জুড়ে আজ ১৫ জুন থেকে শুরু হয়েছে ‘জন কল্যাণ শিবির’। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা ও বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। পূর্ববর্তী সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির ধাঁচেই এই শিবিরগুলির আয়োজন করা হয়েছে। ব্যতিক্রম নয় বীরভূম জেলাও। তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে জেলার বিভিন্ন শিবিরে সকাল থেকেই লক্ষ্য করা গেছে উৎসাহী মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূমের সিউড়ি, রামপুরহাট, বোলপুর, দুবরাজপুর, ইলামবাজার-সহ মোট ১৯টি ব্লক এবং সিউড়ি, সাঁইথিয়া, রামপুরহাট, বোলপুর, নলহাটি ও দুবরাজপুর—এই ৬টি পৌরসভা এলাকায় ব্যাপক তৎপরতার সাথে এই শিবির শুরু হয়েছে। ১৫ থেকে ১৭ জুন, ২০২৬ এই তিন দিন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রকল্প সামাজিক সুরক্ষা, আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি সংক্রান্ত সরকারি প্রকল্পের আবেদন গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মাঠে নেমেছেন শীর্ষ আধিকারিকেরা। বীরভূম জেলাতেও বিশেষ তৎপরতা দেখিয়েছে প্রশাসন। নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, জেলা ও ব্লক স্তরের এই শিবিরগুলির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সিনিয়র আধিকারিকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ জুন থেকেই আধিকারিকেরা বীরভূমের বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে শিবিরের পরিকাঠামো, জনসচেতনতা প্রচার এবং আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন।
বীরভূমের বিভিন্ন শিবির ঘুরে দেখা গেছে, বহু মানুষ যাঁরা এতদিন তথ্যের অভাবে বা জটিলতার কারণে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাঁরা সরাসরি শিবিরে এসে আবেদন জানাচ্ছেন। শিবিরগুলিতে বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকায় আবেদন গ্রহণ ও প্রাথমিক যাচাইয়ের কাজ বেশ দ্রুত গতিতেই চলছে। দুবরাজপুর ব্লক স্তরে নেপাল মজুমদার ভবন পৌর এলাকায় রবীন্দ্রসদনে তীব্র গরমের মধ্যেও এই শিবিরগুলিতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করছে যে, সরকারি সুবিধা সরাসরি হাতের নাগালে পাওয়ার এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন। শিবিরের শুরুতেই উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা, দুবরাজপুর বিডিও জয়সূর্য চক্রবর্তী সহ বিভিন্ন আধিকারিকরা। ১৭ জুন পর্যন্ত জেলার সমস্ত শিবিরে এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। এছাড়াও এখানে যারা আবেদন জমা দিতে না পারবেন পরবর্তীতে অফিসে নিয়ম মতই জমা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

সাধারণ মানুষের নানাবিধ সমস্যা সমাধান এবং সরকারি পরিষেবা আরও সহজলভ্য করে তুলতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী জনকল্যাণ শিবির। ১৫ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ কর্মসূচি। সোমবার ছিল শিবিরের প্রথম দিন, আর সেই দিনই বীরভূম জেলার বিভিন্ন শিবিরে দেখা গেল ব্যাপক জনসমাগম। শিবির শুরুর আগে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক প্রচার অভিযান চালানো হয়। ফলে সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে জানতে এবং বিভিন্ন সুবিধার জন্য আবেদন করতে বহু মানুষ শিবিরে উপস্থিত হন। কৃষি, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, সমাজকল্যাণ-সহ বিভিন্ন দপ্তরের জন্য পৃথক কাউন্টার খোলা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ এক জায়গাতেই একাধিক পরিষেবা পেতে পারেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি, আয়ুষ্মান ভারত, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যাও নথিভুক্ত করা হয়, যাতে আগামী দিনে সেগুলির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যায়।
তবে শিবিরে আসা কিছু মানুষের অভিযোগ, প্রচারের সময় প্রকল্পগুলির শর্ত ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় অনেকেই বিভ্রান্ত হন। হাজরতপুর গ্রামের বাসিন্দা অশোক কবিরাজ জানান, প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে তিনি কাঙ্ক্ষিত পরিষেবা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাননি এবং কিছুটা হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে।
অন্যদিকে, লোকপুর গ্রামের নৃপেন্দ্রনাথ সাহা শিবিরের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য একটি শিবির হওয়ায় ভিড় ও চাপ কিছুটা বেশি ছিল। তবুও তিনি প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনার জন্য সফলভাবে আবেদন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সৌরশক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে বন্ধু ও আত্মীয়দের মধ্যেও সচেতনতা গড়ে তুলবেন।
দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা শিবির পরিদর্শন করে বলেন, মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলি সরাসরি শুনে তা নথিভুক্ত করার জন্য এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে এবং বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধানের পথ প্রশস্ত হবে।
রাজ্যের অন্যান্য এলাকার পাশাপাশি দুবরাজপুর ও খয়রাসোল ব্লকের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত এই জনকল্যাণ শিবির সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। প্রশাসনের আশা, আগামী দুদিনেও বিপুল সংখ্যক মানুষ শিবিরে এসে সরকারি পরিষেবা ও প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *