‘এখনও মাথায় তৃণমূল ঘুরছে?’ বীরভূমের সিউড়ির জনকল্যাণ শিবিরে অব্যবস্থা দেখে পুরকর্তাকে চরম ধমক উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর

শম্ভুনাথ সেনঃ

দেড় দশক পর বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পূর্বতন সরকারের ধাঁচে সাধারণ মানুষের দুয়ারে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে শুরু হয়েছে ‘জনকল্যাণ শিবির’। কিন্তু শুরুর তৃতীয় দিনেই বীরভূমের সিউড়িতে এই শিবিরের অব্যবস্থা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী তথা স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। পরিস্থিতি দেখে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী পুরসভার ফিন্যান্স অফিসারকে ডেকে রীতিমতো ধমক দিয়ে প্রশ্ন করেন, “এখনও কি মাথার মধ্যে তৃণমূল ঘুরছে নাকি?” একইসঙ্গে ব্যানার লাগানোর দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ‘শো-কজ’ করারও নির্দেশ দেন তিনি।
উল্লেখ্য,গত ১৫ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া এই শিবির আসলে বিগত সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’-এর আদলে তৈরি ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের এক অভিনব প্রয়াস। বীরভূমের জেলা সদর সিউড়ির সিধু-কানু মঞ্চের শিবিরে গিয়ে মন্ত্রী দেখেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি সংবলিত ব্যানারগুলি সঠিকভাবে লাগানোই হয়নি। প্রসঙ্গত এই শিবির থেকে
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মোট ৫৫ টি প্রকল্পের সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। আয়ুষ্মান ভারত, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, সূর্য ঘর প্রকল্প, বার্ধক্য ভাতা এইসব শিবির গুলিতে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিন দিন শিবির হলেও অত্যধিক গরম এবং উপচে পড়া ভিড়ের কারণে জনক্ষোভের কথা মাথায় রেখে শিবিরের মেয়াদ আরও ১ দিন বাড়ানো হয়েছে।
যদিও সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এই শিবিরে উপভোক্তাদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভও জমছে। বহু মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এলেও জানতে পারছেন অধিকাংশ ফর্ম অনলাইনে ফিলাপ করতে হবে, যার ব্যবস্থা শিবিরে নেই। বীরভূম জেলায় ঠিক কত মানুষ এই প্রথম শিবির থেকে সরাসরি সুবিধা পেলেন, তার সঠিক সরকারি পরিসংখ্যান এখনও পাওয়া যায়নি। আগামীকাল শেষ দিনেই তা স্পষ্ট হবে। তবে লক্ষাধিক ফর্ম বিতরণ ও তথ্য সহায়তার কাজ চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *