
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
দুবরাজপুর ব্লকের মেটেলা উচ্চ বিদ্যালয়ে মিড-ডে-মিল প্রকল্পের চাল চুরি এবং রান্নার কাজে যুক্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা গোয়ালিয়াড়া অঞ্চলের ২ নম্বর শক্তিকেন্দ্রের ইনচার্জ রঞ্জিত মণ্ডলকে দলীয়ভাবে শোকজ করা হয়েছে।
গত ১৯ জুন বিদ্যালয়ে মিড-ডে-মিল সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে গ্রামবাসী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা বিক্ষোভে সামিল হন। বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি অভিযুক্ত বিজেপি নেতার বাড়ির সামনেও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি নেতৃত্ব নড়েচড়ে বসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২২ শে জুন সিউড়ি-১ নম্বর মণ্ডল বিজেপির পক্ষ থেকে রঞ্জিত মণ্ডলকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে তাঁকে ১৫ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের মিড-ডে-মিল প্রকল্পে অনিয়ম ও চাল আত্মসাতের ঘটনা ঘটছিল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার যোগসাজশে এই দুর্নীতি চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা দুবরাজপুরের বিডিও-র কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরই তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগের তির উঠেছে বিজেপি নেতা রঞ্জিত মণ্ডলের দিকে।
মেটেলা উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী পর্যায়ক্রমে মিড-ডে-মিল রান্নার দায়িত্ব পালন করে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে পালা বদল হলেও, সেই ব্যবস্থাকেই ঘিরে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের বক্তব্য, মিড-ডে-মিল পরিচালনায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং সরকারি খাদ্যসামগ্রী বণ্টনেও গরমিল দেখা গেছে। তাঁদের অভিযোগ প্রশাসনের নজরে আনার পর থেকেই চাপ ও হুমকির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয়দের দাবি, রঞ্জিত মণ্ডল পূর্বে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিজেপির সক্রিয় নেতা হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর বিরুদ্ধেই ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, দুর্নীতি ও হুমকির অভিযোগকে ঘিরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককেও ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, গোটা ঘটনার নেপথ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও ভূমিকা রয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক। তাঁর দাবি, বিদ্যালয়ে কোনো বিক্ষোভ হয়নি, বরং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু সমস্যা তৈরি হলেও আগামী ২৪ শে জুন সমস্ত পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তদন্ত এবং বিজেপির শোকজ নোটিশের পর এখন সকলের নজর অভিযুক্ত নেতার জবাব ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
