বীরভূমে আধুনিক দাসপ্রথার ছায়া: হরিয়ানায় বন্দি ইলামবাজারের আদিবাসী মহিলা উদ্ধার

শম্ভুনাথ সেনঃ

প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগেও আদিবাসী নারীর বন্দি দশা মনে করিয়ে দিচ্ছে মধ্যযুগীয় ক্রীতদাস প্রথার অন্ধকার ইতিহাস। মাত্র ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে হরিয়ানার গুরুগ্রামে কার্যত বন্ধকী শ্রমিকে পরিণত করা হয়েছিল বীরভূমের ইলামবাজার থানার ভরতপুর গ্রামের আদিবাসী মহিলা ভাদু মান্ডিকে। ভালো কাজ ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রায় দুই বছর আগে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। অভিযোগ, গুরুগ্রামের একটি অভিজাত আবাসনে তাঁকে বন্দি রেখে প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় অমানুষিক পরিশ্রম করানো হতো। সামান্য ভুলেই চলত শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, জুটত না পর্যাপ্ত খাবার। আটকে রাখা হয় তাঁর ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, গয়না ও উপার্জিত অর্থ।
অবশেষে গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখে বীরভূম ও গুরুগ্রাম পুলিশ, ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি এবং নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও ১৯৭৬ সালের বন্ধকী শ্রম উচ্ছেদ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। বর্তমানে ভাদু মান্ডির একটাই দাবি— দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। একইসঙ্গে পুনর্বাসনের জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত রিলিজ সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

ছবিঃ জয়ন্ত মন্ডল, ইলামবাজার, বীরভূম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *