
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বীরভূম জেলার অন্যতম সম্পদ বালি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, নিজেদের এলাকার বালি চড়া দামে বাইরে পাচার হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। ফলে বাড়ি নির্মাণের খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি আবাস যোজনার বহু বাড়ির কাজও বালির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল।
বিশেষ করে সিউড়ি-১ ও রাজনগর ব্লকে বহু আবাস উপভোক্তা, রাজমিস্ত্রি এবং নির্মাণ শ্রমিক বালির সংকটের কারণে সমস্যায় পড়েন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ব্লক প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়।
অবশেষে সেই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিল প্রশাসন। সরকারি পাইলট প্রকল্পের আওতায় আবাস যোজনার উপভোক্তাদের জন্য ট্রাক্টর পিছু মাত্র ১,৫০০ টাকায় বালি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে এলাকাজুড়ে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের সময় অনুমোদিত বহু আবাস যোজনার বাড়ি বালির অভাবে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। সেই সময় সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী, বর্তমানে বিধায়ক ও রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে বালির ব্যবস্থা করা হবে। প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রাজনগর ব্লকে এই কর্মসূচির তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন বিডিও শুভাশিস চক্রবর্তী, থানার ওসি অঙ্কুশ মণ্ডল, বিএলঅ্যান্ডএলআরও নবীন সিং এবং ব্লক-স্তরের সার্ভিল্যান্স টিম। ইতিমধ্যেই রাজনগরের আকরা সাহেব মাজার সংলগ্ন ফাঁকা জায়গায় বালি মজুত করা শুরু হয়েছে। সেখান থেকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছে বালি পৌঁছে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, আগে এক ট্রাক্টর বালির জন্য যেখানে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হতো, সেখানে এখন মাত্র ১,৫০০ টাকায় বালি পাওয়ায় উপভোক্তাদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আবাস যোজনার বাড়ি নির্মাণের কাজও দ্রুত সম্পূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই উদ্যোগে খুশি আবাস যোজনার বহু উপভোক্তা। তাঁদের বক্তব্য, স্বল্পমূল্যে বালি সরবরাহের ফলে বহুদিনের সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। পাশাপাশি তাঁরা এই উদ্যোগের জন্য রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
