
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। সম্প্রতি দুবরাজপুর ব্লকের মেটেলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিডডে মিলের চাল বিক্রির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। সেই আবহেই এবার বীরভূমের খয়রাসোল ব্লকের লোকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ঘিরে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হলেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি এবং গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় মিড-ডে মিল প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, বিদ্যালয়ের পুরনো ভবন ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও লোহার রড বিক্রির অভিযোগ, সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল বণ্টন নিয়ে অনিয়ম-সহ একাধিক বিষয় উত্থাপিত হয়। অভিযোগ ঘিরে সভা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিদ্যালয়ের বাইরেও বহু মানুষের ভিড় জমে।
পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠায় বিক্ষুব্ধদের তরফে ‘ডিম থেরাপি’র আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল বলে উপস্থিতদের একাংশের দাবি। তবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নজরদারি ক্যামেরা থাকায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা উজ্জ্বল বহড়া বলেন, “আজকের আলোচনাসভায় অভিভাবক, এস আই, পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সহ পঞ্চায়েতের ও সমিতির জনপ্রতিনিধি সহ এলাকাবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান শিক্ষককে মিড-ডে মিল, সবুজ সাথী প্রকল্প এবং পুরনো বিদ্যালয় ভবন ভাঙার মতো বিষয়গুলির পূর্ণ হিসাব জনসমক্ষে এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে হবে।”
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোমনাথ ধীবর জানান, “অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা সভা হয়েছে। মিড-ডে মিল-সহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত হোক, তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।” সভায় উপস্থিত খয়রাশোল চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক আশিষ মাহাতা বলেন, “অভিভাবক ও এলাকাবাসীরা মিড-ডে মিল-সহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁদের লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে নিয়ম মেনে তদন্ত শুরু করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই ক্ষোভ আরও প্রকাশ্যে এসেছে এবং বিদ্যালয় পরিচালনা সংক্রান্ত নানা অভিযোগ নিয়ে এলাকাবাসী সরব হয়েছেন।

