
শম্ভুনাথ সেনঃ
পশ্চিমবঙ্গে অপরাধ, সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেট রাজের টুঁটি চেপে ধরতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য প্রশাসন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, বিধানসভায় পাস হওয়া ‘গুন্ডা দমন আইন’ এবং ‘প্রতিরোধমূলক আটক বিল’-এ রাজ্যপালের সম্মতি মেলার পর ১৩ জুলাই থেকে সমগ্র রাজ্য জুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো এই দুটি অত্যন্ত কঠোর আইন। সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য রুখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রশাসনের হাতকে এবার অভূতপূর্বভাবে শক্ত করা হলো।
নতুন কার্যকর হওয়া ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’ বা বহুল চর্চিত ‘গুন্ডা দমন আইন’-এর হাত ধরে অপরাধ দমনের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন এখন থেকে কোনো বিপজ্জনক ব্যক্তিকে বিনা বিচারে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত আটকে রাখতে পারবে। পাশাপাশি, দাগী অপরাধীদের অনধিক ১ বছরের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে বহিষ্কার (Externment) করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি ও জেলাশাসকদের। তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি খনি বা বালি-পাথর উত্তোলন এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধমূলক উপায়ে উপার্জিত সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে সরকার। এই আইনের আওতাধীন সমস্ত অপরাধকে সম্পূর্ণ জামিন-অযোগ্য করা হয়েছে এবং পুলিশ কোনো পরোয়ানা ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারবে।
প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন দুবরাজপুর বিধানসভার বিধায়ক তথা সর্বভারতীয় যুব মোর্চার সহ-সভাপতি অনুপ কুমার সাহা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সমাজে আইনের শাসনই সর্বদা সর্বাগ্রে। নতুন এই কঠোর আইনের প্রয়োগের ফলে অপরাধ করে পার পাওয়ার দিন এবার শেষ। অপরাধীদের উদ্দেশ্যে প্রশাসনের এই স্পষ্ট বার্তা সাধারণ মানুষের মনে যেমন সুরক্ষার ভরসা জোগাবে, তেমনই রাজ্যে এক নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে এটি এক যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে থাকবে।
