পশুপক্ষী হাট বাঁচাও সমিতির উদ্যোগে জেলাশাসক ও জেলা প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরে ডেপুটেশন

সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় পশুপক্ষীর হাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন হাট-নির্ভর ব্যবসায়ী, খামারি, লিজহোল্ডার, শ্রমিক এবং কৃষকরা। দীর্ঘদিন ধরে পশুহাট বন্ধ থাকায় বহু মানুষের জীবিকা বিপর্যস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি কৃষকরাও তাঁদের গবাদি পশুর ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, কারণ খোলা বাজারে দর-কষাকষির সুযোগ না থাকায় কম দামে পশু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে সোমবার বীরভূম জেলা পশুপক্ষী হাট বাঁচাও সমিতির উদ্যোগে সিউড়ির ঈদগাহ ময়দানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাট মালিক, লিজহোল্ডার, ব্যবসায়ী, খামারি এবং সাধারণ মানুষ সমবেত হন। পরে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে একটি বিক্ষোভ মিছিল সিউড়ি শহর পরিক্রমা করে বীরভূমের জেলাশাসকের কার্যালয় এবং জেলা প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরে পৌঁছে স্মারকলিপি প্রদান করে।


ডেপুটেশনে নেতৃত্ব দেন সমিতির পক্ষ থেকে মহঃ সফিউল হক, খুরসিদ আলম মিলন, মানস সিংহ, দিলীপ কুণ্ডু সহ অন্যান্য সদস্যরা। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—রাজ্য সরকারের আরোপিত নতুন বিধি প্রত্যাহার। পশু আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। পশুহাটের লাইসেন্স নবীকরণের (রিনিউ) প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করা। জেলার বন্ধ থাকা পশুপক্ষীর হাটগুলি দ্রুত পুনরায় চালু করা এবং স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা। সমিতির অভিযোগ, পশুহাট বন্ধ থাকায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত হাজার হাজার মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ী, পরিবহণ কর্মী, শ্রমিক, খামারি থেকে শুরু করে বহু পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ফলে দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিনিধিরা জানান, তাঁদের লিখিত দাবিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে রাজ্য সরকারের নজরে আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সমিতির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, শুধু বীরভূম নয়, রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও একই দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। উল্লেখ্য, পশুপক্ষীর হাট চালু হলে একদিকে যেমন কৃষক ও খামারিরা তাদের গবাদি পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন, অন্যদিকে এই হাটগুলির সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য মানুষের জীবিকা আবারও স্বাভাবিক হবে— এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *