
শম্ভুনাথ সেনঃ
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা, ঘর ভাঙচুর এবং তোলাবাজির অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন বীরভূমের শান্তিনিকেতন থানার কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান মামুন শেখ। গত ১২ জুলাই রবিবার লাভপুরের গঙ্গারামপুর এলাকা থেকে শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় সূত্রে খবর, একদা অনুব্রত ঘনিষ্ঠ মামুন পরবর্তীতে কাজল সেখের শিবিরে যোগ দেন। তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করে বিজেপি নেতা খোকন দাস দাবি করেন, পুলিশ এখন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে।আজ ১৩ জুলাই,সোমবার সকালে মামুন সেখকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বোলপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে উপস্থিত একদল মানুষ তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এরপর কোমরে দড়ি বেঁধে তাঁকে বোলপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আদালত চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীরা ফের ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগ, উত্তেজনার পারদ চড়তেই মামুন সেখকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২১ সালের ভোটের পর মামুন সেখের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মী-সমর্থক ও মহিলাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো। এক ব্যক্তির হাঁটু ভেঙে দেওয়া এবং বিজেপি কর্মীদের পার্টি অফিসে দীর্ঘক্ষণ রোদ-বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। তবে এখন মহামান্য আদালত অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কি নির্দেশ দেন সেটাই দেখার বিষয়।
