
সেখ রিয়াজুদ্দিনঃ
১২৫ দিনের কাজ অবিলম্বে চালু করা, আবাস যোজনায় প্রকৃত গৃহহীনদের অন্তর্ভুক্তি, জবকার্ডধারীদের নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত করা, বালি ও সারের কালোবাজারি রোধ-সহ একাধিক দাবিতে বুধবার ময়ূরেশ্বর-১ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর কাছে স্মারকলিপি জমা দিল সিপিআইএমের ময়ূরেশ্বর-১ এরিয়া কমিটি।
এদিন প্রথমে বিভিন্ন দাবি-সম্বলিত প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে একটি সুসজ্জিত বিক্ষোভ মিছিল মল্লারপুর বাজারের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। পরে বিডিও অফিস চত্বরে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিবদাস লেট। বক্তব্য রাখেন সিপিআইএমের এরিয়া কমিটির সম্পাদক তমাল চন্দ্র দে, অরূপ বাগ, গণআন্দোলনের নেতা বলরাম চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সভা শেষে তমাল চন্দ্র দে, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য গণেশ মাল এবং মেলারুদ্দিন শেখের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিডিওর হাতে দাবিপত্র-সহ স্মারকলিপি তুলে দেন।

স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, আবাস যোজনায় প্রকৃত গৃহহীন ও দরিদ্র পরিবারকে শুধুমাত্র নথিপত্রের অজুহাতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। যেসব জবকার্ডধারীর নাম রাজনৈতিক কারণে বা অন্যায্যভাবে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি অবিলম্বে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান চালু, বালির কালোবাজারি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের স্বার্থে সারের কালোবাজারি বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়।
এছাড়াও সভা ও মিছিল থেকে রাজ্য কৃষক সভার সম্পাদক পরেশ পাল এবং রাজ্য নেতৃত্ব তাপস সিনহার উপর বিজেপি কর্মীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সিপিআইএম নেতা লাহেক আলীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানানো হয়। বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের জীবিকা, কৃষকের স্বার্থ এবং গরিব মানুষের প্রাপ্য সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটারও ইঙ্গিত দেন।

