বীরভূমের বিপ্লব থেকে কলমযুদ্ধ: প্রবীণ সাংবাদিক পূর্ণ দত্তের জীবনাবসান

শম্ভুনাথ সেনঃ

বীরভূমের রাজনগরের মাটি থেকে উঠে আসা এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ হলো। চলে গেলেন বর্ষীয়ান লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক পূর্ণ দত্ত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। পক্ষাঘাতজনিত রোগে দীর্ঘ ৫ বছর শয্যাশায়ী থাকার পর গত ৩ আগস্ট শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিউড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই আজ ৬ আগস্ট, বৃহস্পতিবার সকাল ৮.১৫ মিঃ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, পূর্ণ দত্তের জন্মভূমি তাঁতিপাড়া গ্রাম। গ্রামের নবকিশোর বিদ্যানিকেতন থেকে হায়ার সেকেন্ডারি এবং সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজ পড়াশোনা চলাকালীন তিনি নকশাল আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। চারু মজুমদার, কিষাণ চ্যাটার্জি, কানু সান্যাল, সন্তোষ রাণাদের সময়ের এই সক্রিয় নেতা বিহার, বীরভূম এলাকায় দলের এরিয়া কমিটির দায়িত্ব সামলেছেন দক্ষতার সাথে। ১৯৭২ সালে গ্রেপ্তারির পর বিচারে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। দুমকা ও সিউড়ি জেলে দিন কাটে তাঁর। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি জেল থেকে মুক্তি পান।
জেলমুক্তির পর বন্দুকের পথ ছেড়ে তিনি নিজেকে সঁপে দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, সাংবাদিকতা ও লেখালেখির জগতে। তিনি বুঝেছিলেন, বন্দুকের নল কখনও স্থায়ী শান্তির উৎস হতে পারে না। ‘চণ্ডীদাস’ পত্রিকায় ‘নকুল নস্কর’ ছদ্মনামে তাঁর তদন্তমূলক লেখা এবং পরবর্তীতে বীরভূমের সেরা সাপ্তাহিকি ‘নয়াপ্রজন্ম’ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে জেলার মানুষের কাছে তিনি অনন্য পরিচিতি পান। পরবর্তীতে তিনি ব্যবসা জগতে পা রাখেন। একদা তিনি জেলা ধান্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃত্বও দিয়েছিলেন।
আজ ৬ আগস্ট দুপুরে বক্রেশ্বর মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তিনি রেখে গেলেন স্ত্রী মালারাণী দত্ত, একমাত্র পুত্র দেবপ্রসাদ দত্ত, পুত্রবধূ মিঠু দত্ত, কন্যা-জামাতা, নাতি-নাতনি সহ বহু গুণগ্রাহী ও স্বজন বন্ধুকে। তাঁর প্রয়াণে বীরভূমের সাহিত্য ও সাংবাদিকতার জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *