শম্ভুনাথ সেনঃ
শ্রাবণ মাসের চতুর্থ সোমবারে বীরভূমের দুই প্রখ্যাত তীর্থক্ষেত্র—বক্রেশ্বর ও জয়দেব কেন্দুলী—জুড়ে দেখা গেল শিবভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। ভক্তি, নিষ্ঠা আর ‘বোল ব্যোম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল রাঢ়বঙ্গের এই পবিত্র মাটি।
ভোর হতেই ঐতিহ্যবাহী বক্রেশ্বর শৈবক্ষেত্রে শুরু হয় অগণিত পুণ্যার্থীর সমাগম। রাত থেকেই দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন ভক্তরা। ভোর হওয়ার সাথে সাথে বাবা বক্রনাথের দর্শনে মন্দির চত্বরে তৈরি হয় এক অভাবনীয় পরিবেশ। পবিত্র জল, দুধ ও বেলপাতা নিবেদন করে পুণ্যার্থীরা মনের আকুতি জানান বাবা ভোলানাথের চরণে। ভক্তদের অবিরাম ধ্বনিতে পুরো বক্রেশ্বর প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে এক পরম আধ্যাত্মিক ক্ষেত্র।
অন্যদিতে, বৈষ্ণবতীর্থ জয়দেব কেন্দুলীর সংলগ্ন অজয় নদেও সকাল থেকেই দেখা যায় বাঁক কাঁধে হাজার হাজার ভক্তের ঢল। দূরদূরান্ত থেকে আসা শিবভক্তরা অজয় নদ থেকে পবিত্র জল সংগ্রহ করতে ভিড় জমান। স্থানটি মূলতঃ বাউল ও বৈষ্ণব সাধনার ক্ষেত্র হলেও, শ্রাবণের এই বিশেষ দিনে তা পরিণত হয় শিব উপাসনার এক অনন্য মিলনমেলায়। অজয় নদ থেকে জল তুলে ভক্তরা পায়ে হেঁটে পাড়ি জমাচ্ছেন বক্রেশ্বর, ভুবনেশ্বর, রাঢেশ্বর এবং জয়দেব কেন্দুলীর স্থানীয় ঐতিহাসিক কুশেশ্বর মন্দিরে।
বহু পুণ্যার্থী জানান, বছরের পর বছর ধরে তাঁরা এই প্রথা মেনে অজয় নদ থেকে জল তুলে শিবলিঙ্গে অর্পণ করে আসছেন। ভক্তদের এই উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে ছিল জোরদার নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে, শ্রাবণের এই চতুর্থ সোমবারে পুরো বীরভূম যেন ঢেকে গিয়েছিল ভক্তি আর বিশ্বাসের এক সুরম্য চাদরে।
