শম্ভুনাথ সেনঃ
সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বেআইনি পাথর পরিবহনের এক বড়সড় কারচুপির পর্দাফাঁস হলো বীরভূমে। যৌথ অভিযান চালিয়ে গতকাল জাল ওজনের নথি ও অসঙ্গতিপূর্ণ DCR স্লিপ সহ দুটি পাথর-চিপস বোঝাই গাড়ি আটক করেছে প্রশাসন। একই সাথে এই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই গাড়ি চালক এবং এক ওয়ে-ব্রিজ অপারেটরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রের খবর পেয়ে মুরারই থানার চাতরা এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় বিএলঅ্যান্ডএলআরও (BL&LRO) মুরারই-১ এবং মুরারই থানার পুলিশ বাহিনী। অভিযান চলাকালীন পাথর-চিপস বোঝাই দুটি ৬-চাকার গাড়িকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। চালকরা যে ওজনের স্লিপ ও DCR নথি দেখান, তাতে সন্দেহ জাগে আধিকারিকদের।
নথির সত্যতা যাচাই করতে গাড়ি দুটিকে নিকটবর্তী অন্য একটি অনুমোদিত ওয়ে-ব্রিজে নিয়ে গিয়ে পুনরায় ওজন করা হয়। তখনই চালকদের জমা দেওয়া নথির ওজনের সঙ্গে প্রকৃত ওজনের বড়সড় গরমিল প্রকাশ্যে আসে। স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সুপরিকল্পিতভাবে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার পর বিএলঅ্যান্ডএলআরও-র লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মুরারই থানায় মামলা রুজু হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ তড়িঘড়ি দুটি গাড়িই বাজেয়াপ্ত করে এবং ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
ধৃতরা হলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ থানার বাউলঝাড়ের বাসিন্দা দুই চালক ইমামুল হোসেন ও মনিরুদ্দিন মিঞা এবং স্থানীয় চাতরার ‘বিকে ওয়ে-ব্রিজ’-এর অপারেটর নবাব শেখ।

গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে ইতিমধ্যেই রামপুরহাট আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই জালিয়াতি চক্রের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে এবং এর নেপথ্যে আর কোন প্রভাবশালী মাথা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে মুরারই থানার পুলিশ।
ছবি ও ভিডিওঃ দিপু মিঞা, মুরারই, বীরভূম
