শম্ভুনাথ সেনঃ
১৬ আগস্ট সাতসকালে রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় নিজের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হলো রামপুরহাটের পাঁচ বারের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার ডঃ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ। এই প্রবীণ নেতার আকস্মিক প্রয়াণে রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ২০০১ সাল থেকে টানা রামপুরহাট কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া আশিসবাবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় কৃষি, বায়োটেকনোলজি, পরিসংখ্যান এবং আয়ুষ (AYUSH) দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর তাঁকে ডেপুটি স্পিকারের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং বীরভূমের রামপুরহাট কলেজের বাংলার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে সফল শিক্ষকতা জীবন কাটিয়েছিলেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর মরদেহের পাশ থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার হয়েছে। ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’’ ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সারাজীবন সততার সঙ্গে চলার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, এক পয়সাও দুর্নীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন না। তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (টিআরডিএ)-র নানা বিতর্ক নিয়ে তাঁকে অপমান করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি লিখে গেছেন, রাজনীতিতে আসাটাই তাঁর ভুল হয়েছিল এবং পরিবারের কাউকেই যেন ভবিষ্যতে রাজনীতিতে না জড়ানো হয়।
শিক্ষকতার জীবনের স্মৃতিচারণ করে ছাত্রছাত্রীদের ভালোবাসার কথাও তিনি চিঠিতে স্মরণ করেছেন। বগটুই কাণ্ড এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ২০২৬ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকেই তিনি কিছুটা অন্তর্মুখী ছিলেন। তবে এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না এবং উদ্ধার হওয়া চিঠিটি তাঁরই কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাঁর এই প্রয়াণে এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও শিক্ষাবিদের অধ্যায় চিরতরে অস্তমিত হলো। দলমত নির্বিশেষে সারা জেলার মানুষ শোকোস্তব্ধ।
