
শম্ভুনাথ সেনঃ

“ওয়াল্ড হেরিটেজ” বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তকমা পেতে চলেছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনেই একথা টুইট করে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি। এছাড়া, ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের তরফেও বিশ্বভারতীকে মৌখিকভাবে তা জানানো হয়েছে। একথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের রিয়ার্ধে আয়োজিত সম্মেলনে তা ঘোষণা করা হবে। এই প্রথম কোনো লিভিং বিশ্ববিদ্যালয় এই তকমা পেতে চলেছে৷ স্বাভাবিকভাবেই খুশি শান্তিনিকেতন বাসীদের সাথে সারা বীরভূম জেলার মানুষ। এমন খবর পৌঁছাতেই গত শুক্রবার উপাসনা মন্দির থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বভারতীর আবেদনের ভিত্তিতে ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর ইউনেস্কোর (UNESCO) ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সরেজমিনে দেখে গিয়েছিলেন৷ বিশ্বভারতীর বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান শান্তিনিকেতন গৃহ, উপাসনা মন্দির, ঘন্টাতলা, কলাভবন, সঙ্গীত ভবন, রবীন্দ্রভবন, ছাতিমতলা, গৌরপ্রাঙ্গণ প্রভৃতি রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলি ঘুরে দেখেন তাঁরা ৷
গত ৯ মে কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি একটি টুইট করে লেখেন, “গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে ভারতের জন্য একটি দারুণ সুখবর। ICOMOS দ্বারা বিশ্বে ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পাচ্ছে বিশ্বভারতী। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরবের রিয়াধে আয়োজিত ইউনেস্কোর (United nation educational scientific and cultural organization) সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তা ঘোষণা করা হবে।”
বিশ্বকবির বিশ্বভারতী “ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ” চিহ্নিত হওয়ায় খুশির হাওয়া বইছে শান্তিনিকেতন জুড়ে৷ উল্লেখ্য, পরাধীন ভারতে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে বীরভূমের বোলপুর এলাকায় ১,১৩০ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিশ্বভারতী। ১৯৫১ খ্রী. তা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়। আর এই ২০২৩ সালে বিশ্বভারতীর মুকুটে ইউনেস্কো কর্তৃক “ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ” অর্থাৎ বীরভূম জায়গা পেল আবারও বিশ্বের দরবারে।